চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যদিও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে সরকার। এজন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। তাছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ২০ হাজার কোটি টাকার মতো কমানো যেতে পারে বলে মনে করছে সরকার, যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
গতকাল অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অনলাইনে অনুষ্ঠিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা অংশ নেন।
সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না। এ কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। তাছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি এখনো ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছে সরকার।
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় নীতি সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ কমানো যায় কিনা— সে বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে নীতি সুদহার এ মুহূর্তে কমানো উচিত হবে না বলে মত দিয়েছেন গভর্নর। মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেমে না আসার কারণে আরো বেশ কিছুদিন কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর সাধারণত ডিসেম্বরে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে রাজস্ব আহরণ, এডিপি বাস্তবায়ন, রফতানি-রেমিট্যান্স প্রবাহ বিশ্লেষণসহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি, আমদানি ও বিনিয়োগ চিত্রসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়। সভায় ওই বছরের বাজেট সংশোধনের একটি রূপারেখা ও পরের অর্থবছরের বাজেটের প্রাথমিক প্রক্ষেপণ তুলে ধরে তার অনুমোদন নেয় অর্থ বিভাগ। চলতি অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কম হওয়া, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টারা। তবে বাজেট ঘাটতি না বাড়িয়ে এডিপি বাস্তবায়ন বাড়াতে গেলে রাজস্ব আহরণে জোর দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারা। যদিও বিদ্যমান পরিস্থিতি ও সামনে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে চলতি অর্থবছরেও সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ে শ্লথগতি থাকবে বলে মনে করছেন তারা।